তাওহিদ বা ইমান ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ
অজু-সালাত-সিয়ামসহ বিভিন্ন ইবাদত বিনষ্ট হওয়ার যেমন কিছু কারণ আছে, ঠিক তেমনই সকল ইবাদতের মূল ইমান বা তাওহিদ ভঙ্গেরও কিছু কারণ আছে।
যে জিনিস যত দামী হয়, তা বিনষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করাটাও তত গুরুত্বপূর্ণ হয়। দুনিয়ার জীবনে একজন মুমিনের জন্য যেহেতু ইমানই সবচেয়ে দামী ও গুরুত্বপূর্ণ, তাই এটা বিনষ্ট হওয়ার কারণসমূহ জানা অত্যন্ত জরুরি।
নোট: এ লেখা শিক্ষামূলক। কারও উপর নির্দিষ্টভাবে কুফর/শিরকের হুকুম আরোপ করা (তাকফির) অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়; এতে যোগ্য আলিম ও প্রাসঙ্গিক শর্ত-প্রতিবন্ধকতা বিবেচনা অপরিহার্য।
১) গাইরুল্লাহর ইবাদত করা
আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করা বা ইবাদতের উপযুক্ত মনে করা ইমান বিনষ্টকারী।
"বলুন, আমার সালাত, আমার ইবাদাত, আমার জীবন ও আমার মরণ জগতসমূহের রব একমাত্র আল্লাহরই জন্যে। তাঁর কোনো শরিক নেই।"
*(সুরা আল-আনআম: ১৬২-১৬৩)*
২) দ্বীনের অকাট্য বিধান অস্বীকার করা
দ্বীনের সুস্পষ্ট ও অকাট্য বিধান অস্বীকার করা ইমান বিনষ্টকারী।
৩) হারামকে হালাল বা হালালকে হারাম মনে করা
শরীয়তের প্রমাণিত হারামকে হালাল বা প্রমাণিত হালালকে হারাম মনে করা ইমান ভঙ্গের কারণ।
৪) দ্বীনবিমুখ হওয়া
দ্বীনের ব্যাপারে সম্পূর্ণ বিমুখতা প্রদর্শন করা এবং আল্লাহ-রাসুলের হুকুমের প্রতি উদাসীনতা—ইমানের জন্য বিপজ্জনক।
৫) দ্বীনের কোনো বিধান অপছন্দ করা
দ্বীনের সুসাব্যস্ত কোনো বিধান অন্তরে অপছন্দ/বিদ্বেষ করা ইমান ভঙ্গের কারণ হতে পারে।
"এটা এজন্য যে, তারা আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তা অপছন্দ করেছে, ফলে আল্লাহ তাদের আমলসমূহ বিনষ্ট করে দিয়েছেন।"
*(সুরা মুহাম্মাদ: ৮-৯)*
৬) আল্লাহ, রাসুল ও ইসলাম নিয়ে বিদ্রুপ
আল্লাহ, তাঁর আয়াতসমূহ ও রাসুল ﷺ–কে নিয়ে বিদ্রুপ/ঠাট্টা ইমান ভঙ্গের কারণ।
উপসংহার
ইমান ও তাওহিদ মুমিনের সবচেয়ে দামী সম্পদ। তাই ইমান ভঙ্গকারী মৌলিক কারণগুলো জানা, আত্মসমালোচনা করা, শিরক-কুফরের পথ থেকে বেঁচে থাকা এবং কুরআন-সুন্নাহর উপর আমলকে মজবুত করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অতি জরুরি।
আল্লাহ আমাদের শিরকমুক্ত বিশুদ্ধ তাওহিদের উপর জীবন পরিচালনার তাওফিক দান করুন এবং তাওহিদের উপরই মৃত্যু দান করুন। আমীন।
শেয়ার করুন