শাম প্রতিরক্ষায় মুসলিমদের করণীয়
শাম (আশ-শাম) সম্পর্কে কুরআন ও হাদিসে ফজিলত ও বরকতের কথা এসেছে। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে মুসলিমদের করণীয় হলো ঈমানি দৃঢ়তা, পারস্পরিক ঐক্য, দুআ এবং নিপীড়িতদের জন্য বাস্তবসম্মত মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি করা।
আশ-শামের ফজিলত ও বরকত
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেন:
"আর আমি তাকে ও লূতকে উদ্ধার করে সে দেশে নিয়ে গেলাম, যেখানে আমি বিশ্ববাসীর জন্য বরকত রেখেছি।"
*(সূরা আল-আম্বিয়া: ৭১)*
মুসলিমদের করণীয়
১) ঈমানি দৃঢ়তা ও সত্যের উপর অবিচল থাকা
ফিতনা ও বিপর্যয়ের সময় ঈমান, সালাত, কুরআন তিলাওয়াত, তওবা-ইস্তিগফার এবং সুন্নাহ আঁকড়ে ধরাই মুমিনের প্রধান অবলম্বন।
২) দুআ ও নুসরাত চাওয়া
নিপীড়িত মুসলিমদের জন্য কুনূতে নাযিলা, ব্যক্তিগত দুআ এবং সম্মিলিত দুআর মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য চাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
৩) ঐক্যবদ্ধ হওয়া ও বিভেদ এড়ানো
উম্মাহর দুর্বলতার বড় কারণ অন্তর্দ্বন্দ্ব ও দলাদলি। তাই অপবাদ, উসকানি, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এড়িয়ে একতা বজায় রাখা জরুরি।
৪) মানবিক সহায়তা জোরদার করা
নির্ভরযোগ্য চ্যানেলের মাধ্যমে ত্রাণ, চিকিৎসা, খাদ্য, পানি, আশ্রয়, শীতবস্ত্র এবং পুনর্বাসন সহায়তায় অংশ নেওয়া।
৫) সত্য তথ্য প্রচার ও দায়িত্বশীলতা
গুজব, উসকানিমূলক পোস্ট এবং যাচাইহীন সংবাদ ছড়ানো ফিতনা বাড়ায়। তাই তথ্য যাচাই করে দায়িত্বশীলভাবে সচেতনতা তৈরি করা উচিত।
উপসংহার
শামের ফজিলত সম্পর্কে কুরআন ও হাদিসে যে নির্দেশনা এসেছে তা আমাদের ঈমানি সম্পর্ক ও দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। মুসলিমদের উচিত দুআ, ঐক্য ও মানবিক সহায়তার মাধ্যমে মজলুমদের পাশে দাঁড়ানো।
---
published: true
*লেখক: শায়খ সুলাইমান ইবনু নাসির আল-উলওয়ান*
*অনুবাদ: মুফতি শাহেদ রহমানি (হাফিযাহুল্লাহ)*
শেয়ার করুন