গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দ্বীন কায়েম: দাবী ও বাস্তবতা
সকল আর্টিকেল
আকিদাহ

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দ্বীন কায়েম: দাবী ও বাস্তবতা

ইখওয়াহ
৪ জানুয়ারী, ২০২৬2 মিনিট

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দ্বীন কায়েম: দাবী ও বাস্তবতা

বাংলাদেশে যারা দ্বীন কায়েমের অভিপ্রায়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় রয়েছেন, তাদের ইখলাস নিয়ে আপত্তি না থাকলেও কর্মপদ্ধতি নিয়ে সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন তুলতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ সংবিধানের মৌলিক ভিত্তি

বাংলাদেশ সংবিধান চারটি মৌলিক ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত—গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতা।

এই চারটি ভিত্তি বা মতবাদই বাংলাদেশ সংবিধানের অবিচ্ছেদ্য মৌলিক অংশ। এই চারটি মৌলিক বিষয়কে কেউ কখনও পরিবর্তনও করতে পারবে না।

ইসলামের দৃষ্টিকোণ

পক্ষান্তরে ইসলাম এই চারটি মতবাদকে কোনও অবস্থাতেই সমর্থন ও স্বীকার করে না। বরং তা ইসলামি শরীআহর সাথে সম্পূর্ণরূপে সাংঘর্ষিক।

কারণ, আল্লাহর কাছে একমাত্র গ্রহণযোগ্য জীবন বিধান হলো ইসলাম।

সাংবিধানিক বাধা

সংবিধানের ৭ [ক] এবং ৭ [খ] অনুসারে:

কোনও ব্যক্তি শক্তি প্রদর্শন ও শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বা অন্য কোনও অসাংবিধানিক পন্থায় এই সংবিধান বা ইহার কোনও অনুচ্ছেদ রদ, রহিত বা বাতিল বা স্থগিত করিলে তাহার এই কার্য রাষ্ট্রদ্রোহিতা হইবে।

বাস্তব উদাহরণ: মিশর

মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদ মুরসি ও তার সমর্থকদের ইতিহাস আমাদের সামনে স্পষ্ট। শতকরা ৫১.৭% ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিল। তারা ক্ষমতায় এসে দ্বীন কায়েম করেনি, শুধু করার কথা ভেবেছিল ও সামান্য চেষ্টা করেছিল। পরের পরিণতি আমাদের কারও অজানা নয়।

উপসংহার

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কেউ ক্ষমতায় যেতে পারে, এটা সম্ভব। তবে ইসলাম প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। আল্লাহ তা'আলার দ্বীন তাঁর মানসে মোতাবেকই বাস্তবায়িত হবে।

আফগানিস্তান এবং আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চল ও বর্তমান সিরিয়ার বিজিত অঞ্চলগুলো এর জলন্ত উদাহরণ।

আল্লাহ আমাদের বোঝার তাওফীক দিন, আমীন।

আকিদাহইসলামদ্বীন

শেয়ার করুন

লেখক

ইখওয়াহ

ইখওয়াহ-এর একজন সম্মানিত লেখক ও আলেম। ইসলামী শিক্ষা ও দাওয়াতে নিয়োজিত।