ভূমিকা
'ঈদে মিলাদুন্নবি'—এই নাম ও পদ্ধতিতে প্রচলিত অনুষ্ঠানকে ঘিরে উপমহাদেশে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলমান। কারও কাছে এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের মাধ্যম, আবার কারও কাছে এটি বিদআত ও শরীয়তবিরোধী আমল।
নোট: এটি একটি ইলমি আলোচনা। কারও ব্যক্তিগত নিয়ত, ইখলাস বা ঈমান নিয়ে ফায়সালা নয়।
পরিভাষা ও শব্দার্থ
মিলাদের সূচনা ও ইতিহাস
মিলাদুন্নবির সূচনাকারী সম্পর্কে বিভিন্ন বর্ণনা পাওয়া যায়:
2. **ইরবিলের শাসক মুজাফফর কুকুবুরি**
3. **মুসেল শহরের উমর বিন মুহাম্মাদ মোল্লা**
মিলাদের প্রকারভেদ
১) সর্বজনস্বীকৃত সীরাত আলোচনা
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনচরিত আলোচনা—সময় নির্ধারণ, বিশেষ রুসুম ছাড়া।
২) মতবিরোধপূর্ণ প্রচলিত মিলাদ
নির্দিষ্ট দিন-তারিখ নির্ধারণ, কিয়াম, বিশেষ আলোকসজ্জা, নির্দিষ্ট আচার যুক্ত।
প্রচলিত মিলাদে আলোচিত আপত্তি
2. রাত্রিকালীন দীর্ঘ অনুষ্ঠান
3. অংশগ্রহণকে 'অবশ্যক' ভাবা
4. শরীয়ত নির্ধারণ না করা সময়কে নির্দিষ্ট করা
জন্ম-সম্পর্কে সহিহ সুন্নাহ: সোমবারের সিয়াম
সহিহ মুসলিমে এসেছে—সোমবারে সিয়াম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
"এদিনে আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং এদিনেই আমার ওপর অহি নাজিল হয়েছে।"
*(মুসলিম: ১১৬২)*
উপসংহার
সীরাত আলোচনা, নবীর জীবনচরিত পাঠ, দরুদ, সুন্নাহ পালন—এসব সর্বদা গুরুত্বপূর্ণ এবং কল্যাণকর। তবে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হলো: **একটি নির্দিষ্ট দিবসকে নির্দিষ্ট রুসুম-রীতি দিয়ে "ধর্মীয় অনুষ্ঠান" বানানো**।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সহিহ বুঝ, সুন্নাহর অনুসরণ এবং বিদআত থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দিন। আমীন।
শেয়ার করুন